দীর্ঘ ২০ বছর পর আগামীকাল তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নতুন মন্ত্রিসভা মোটামুটি চূড়ান্তও করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ও পুরোনোদের মিশেলে এই মন্ত্রিসভার আকার শুরুতে ছোট হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সাজানো হবে। নতুন-পুরোনোদের সমন্বয়ে হতে যাওয়া এই মন্ত্রিসভার আকার বড় নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলাপ ও পরামর্শ শেষে নতুন মন্ত্রীদের তালিকাও মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের পাশাপাশি বিকল্প নামও শোনা যাচ্ছে। সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিতে আগ্রহী নন। এই অবস্থায় দলের দুই বর্ষীয়ান নেতাকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান। রাষ্ট্রপতি করা না হলে মঈন খানকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
সূত্র বলছে, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কাজ করবেন, এমন ব্যক্তিদেরই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পুরোনোদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের। আলোচনায় আরও আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, ববি হাজ্জাজ ও শাহাদত হোসেন সেলিমও।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর। নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে শরিক দলগুলো থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নামও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি কেমন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।