নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১০ দিন। এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভোট পর্যবেক্ষণে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র আওয়ামী লীগ। একই সাথে দেড় বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অনেক শীর্ষ নেতা। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক পাঠাবে দিল্লি? এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ভারত এখনও জানায়নি, তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কি না।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে যে সংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন, তা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানান, পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যেসব দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের অনেকেই এখনও প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতের পাশাপাশি নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া, রোমানিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসব দেশের কয়েকটি এখনও তাদের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস-এর ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট-এর ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট-এর একজন প্রতিনিধি। এ ছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগত সক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন।