এ যেন এক প্রাসাদবন্দি রাষ্ট্রপতির রোমহর্ষক গল্প। টানা দেড় বছরের সেই বন্দিদশা আর নেই। আর সেই স্বস্তিতেই রুদ্ধকালের ঘটনাপঞ্জি প্রাণখুলে তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিন। গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া নানা সংকটময় মুহূর্ত ও ষড়যন্ত্রের গল্পগুলো অকপটে বললেন তিনি। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন রাষ্ট্রপতি।
অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি অপসারণসহ বিভিন্ন মহলের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জানান, নানা সংকটের মধ্যে একা তাঁর পক্ষে মনোবল অটুট রাখা কঠিন হতো, যদি না বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস ও অভয়বাণী পেতেন। বিশেষ করে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, বাহিনীপ্রধানরা তাঁকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজয়, যা তারা যেকোনো মূল্যে রোধ করবেন।
এ ছাড়া বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁকে স্পষ্ট সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর ভাষায়, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে নন।
বঙ্গভবনে মব পরিস্থিতির সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ফোন করেন তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ওই আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাত ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট টানতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। ঘেরাওয়ের পরপরই সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে সদস্যরা এসে বঙ্গভবনের চারপাশে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ৫ আগস্ট যেভাবে গণভবন লুট হয়েছিল, একইভাবে বঙ্গভবনও লুট হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় প্রশ্নে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি। রাষ্ট্রীয় কোনো বিষয়েই তার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।