মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পরস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ‘চালিয়ে’ রাখবে। ট্রাম্প চান যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করুক। ট্রাম্প আরও বলেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে ও অর্থ উপার্জন শুরু করবে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশাল চ্যালেঞ্জ দেখছেন। তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তেল উৎপাদন লাভজনক করতে হলে ভেনেজুয়েলায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হবে এবং এক দশক পর্যন্ত সময় লাগবে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, কিংবা ট্রাম্পের পরিকল্পনা কাজ করবে তো?
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদের আবাসস্থল। মজুদ তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। কিন্তু বর্তমানে দেশটি যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করে তুলনামূলকভাবে তা খুবই কম।
২০০০ সালের গোড়ার দিকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন তীব্রভাবে কমে যায়। কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ এবং তারপর মাদুরোর প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালিত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ওপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে অভিজ্ঞ বিদেশি কর্মীরা ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
যদিও মার্কিন কোম্পানি শেভরনসহ কিছু পশ্চিমা তেল কোম্পানি এখনও ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় রয়েছে। তবে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সর্বশেষ তেল বাজার প্রতিবেদন অনুসারে, গত নভেম্বরে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন আনুমানিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছিল। এটি ১০ বছর আগের তুলনায় মাত্র এক তৃতীয়াংশ এবং বিশ্ব তেল ব্যবহারের এক শতাংশেরও কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প তেল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে যত সহজেই কথা বলছেন, বাস্তবায়ন আরও কঠিন। অবকাঠামো মেরামত ও বিনিয়োগের ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। মার্কিন উচ্চাকাঙ্খা বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।