ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে যে কয়টি আসন সমঝোতা হয়েছে সেখানে বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে রয়েছেন। বিদ্রোহীদের নিয়ে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। এ অবস্থায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন । বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেকও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ খালেক। এই সাক্ষাতের ফলে দলটির নেতারা মনে করছেন, এমএ খালেকসহ অনেক ‘বিদ্রোহী’ তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এ আসনে তার জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলটির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। আঙ্গুরকেও শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কথা বলেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর তিনিও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনও অনঢ় অবস্থানে আছেন রুমিন ফারহানা।