ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার উৎসব শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি মাঠের লড়াই শুরু হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারে মাঠে নামছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতারা। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন আজ থেকে।
বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদিন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের নির্ধারিত প্রতীক দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও এনসিপির প্রার্থীদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে।
আপস
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই মূলত প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েছেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রচারে বিধি লঙ্ঘন নিয়ে একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ শুরু করেছে। যদিও ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগতভাবে আজ থেকে এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনি প্রচারে আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
প্রচার শুরুর প্রথম দিনে আজ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন। এটাই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি জনসভা। সড়কপথে ঢাকায় আসতে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলায় সাতটি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বরে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করবেন। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে যাবেন।
এদিকে জাতীয় তিন নেতার মাজার এবং ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আজ নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একইভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও আজ থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল। এ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে বিএনপির। দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৮৮ জন। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছেন ২২৪ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন ২৪৯ জন। অন্য দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন, এনসিপির ৩২ জন, এবি পার্টির ৩০ জন ও জাতীয় পার্টির ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
আপস
এ নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগসহ সমমনা নয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।