news.ibtvusa@gmail.com

929-633-2900

যে কারণে ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিল ট্রাম্প

যে কারণে ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিল ট্রাম্প

আইবিটিভি ডিজিটাল      প্রকাশিত: দুপুর ০১:৫৪, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার      আপডেট: বিকাল ০৩:৩৫, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তিনি আরও জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

মাদুরোকে আটক করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে অভিযোগটি করে আসছিলেন তা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অস্ত্র পাচার করছে তার প্রশাসন। কিন্তু আটকের পর ট্রাম্প রাখঢাক না রেখে জানিয়ে দিলেন, তার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভাণ্ডার।

নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী— ভেনেজুয়েলার খনিতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলের মজুদ। যার পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বজুড়ে খনিগুলোতে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ।

প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ভেনেজুয়েলা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আসে, তার মাত্র ০.৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের বিশাল মজুদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তার পরও ভেনেজুয়েলার তেলে কেন তাদের আগ্রহ? এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের তেল হালকা, এ ধরনের অপরিশোধিত তেলকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’।

কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করলেও ভারী তেলের চাহিদা মেটাতে দেশটিকে এখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অধিকাংশ হালকা অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। অথচ টেক্সাস ও লুইজিয়ানার পরিশোধনাগারগুলো চালু রাখতে তাদের প্রতিদিন ছয় হাজার ব্যারেলের বেশি ভারী তেল আমদানি করতে হয়। এ বাস্তবতা মাথায় রাখলেই সমীকরণ মেলানো সম্ভব। এ সমীকরণ অনিবার্যভাবে ভেনেজুয়েলার দিকেই নিয়ে যায়। কেননা, কানাডা ও রাশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভারী তেলের মজুদ ভেনেজুয়েলায়।