পটুয়াখালী-৩ মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন হিসেবেই পরিচিত। ১৯৯৬ সালের জুনের জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই এখানে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই। এ কারণে পুরোপুরি পাল্টে গেছে আসনটির ভোটের দৃশ্যপট।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে, জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মু. শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু বকর সিদ্দীক হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে আছেন।
এই আসনটিতে এবার যেমন নৌকা প্রতীকে প্রার্থী নেই, আবার বিএনপির ধানের শীষও নেই ব্যালটে। এই শূন্যতাই গলাচিপা-দশমিনার ভোটের মাঠে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। বিএনপির সমর্থকেরাও এখানে দ্বিধাবিভক্ত। এরপরেও আওয়ামী লীগবিহীন ভোটের মাঠে এই আসনটি উত্তপ্ত হয়ে আছে নুরুল হক ও মামুন এবং তাঁদের সমর্থকদের নানা বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডের কারণে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে গলাচিপায় নুরুল হক ও হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ইতিমধ্যে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের একাধিক নির্বাচনী কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে প্রশাসন।
নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই এলাকাটির বাসিন্দাদের মনে এখনো দ্বিধা। তাদের কেউ বলছেন, ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের দুই প্রার্থীই ঝামেলা করছে আর অন্তরালে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পক্ষে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে। কেউ আবার বলছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে তাদের ভোট দেবেন না। দুই প্রার্থীর এমন অবস্থানের কারণে জামায়াতের প্রার্থী ভালো ফলাফল করতে পারে এমন বক্তব্যও দিয়েছেন কেউ কেউ। পটুয়াখালীর অন্য তিনটি আসনের চিত্রও কমবেশি একই। স্থানীয়রা জানান, এই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটই জয়-পরাজয়ের সমীকরণ তৈরি করবে।