জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন' কিংবা 'ফজরের নামাজ পড়েই ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে' – নির্বাচনী সভা সমাবেশে রাজনৈতিক নেতাদের এ ধরনের বক্তব্যগুলো নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, মধ্যরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কিংবা ভোরে ফজরের নামাজের পরই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য কেন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা তাদের সমর্থকদের আহবান জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের সময়ে নেতারা 'রাজনৈতিক বক্তৃতা' হিসেবেই কিংবা কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করতে তাদের নিজস্ব 'আক্রমণাত্মক বক্তব্যের অংশ' হিসেবে এসব বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন।
তবে 'তাহাজ্জুদ বা ফজরের' পর লাইনের দাঁড়ানোর প্রসঙ্গটি এমন সময় এলো যখন দেশে ভোটের আলোচনায় ২০১৮ সালের নির্বাচনটি 'রাতের ভোটের' নির্বাচন হিসেবে এখনো আলোচিত হচ্ছে। এর বাইরে বিভিন্ন সরকারের সময়ে দেশের অধিকাংশ নির্বাচনেই কম বেশি কেন্দ্র দখল ও কারচুপির মত অভিযোগ উঠেছিল।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহের জনসভায় ভোটের দিন সকলকে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন,
সকলকে সাথে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। আর ভোট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসলে চলবে না, থাকতে হবে, কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমানের বক্তব্যের পর পাল্টা বক্তব্য এসেছে জামায়াত জোটের নেতাদের দিক থেকেও। মাগুরায় এক পথসভায় জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আপনারা চারদিকে খেয়াল রাখবেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কোনো চিল ছোঁ মেরে ভোট নিয়ে যাবে তা হবে না"। লক্ষ্মীপুরে এক সমাবেশে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "বলা হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে। তাহাজ্জুদের পরেই তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে। ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতা–কর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন"।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলছেন, তাহাজ্জুদ বা ফজরের পরের কথা বলে নেতারা তাদের সমর্থকদের সকাল সকাল কেন্দ্রে আসতে হয়তো উদ্বুদ্ধ করতে চাইছেন। নেতাদের কথার ইতিবাচক দিক হলো তাদের সমর্থকরা ভোরে কেন্দ্রে আসবেন ও ভোটের জন্য প্রস্তুত হবেন। আর ভিন্নভাবে দেখলে এটিকে পরস্পরকে রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা হতে পারে।