news.ibtvusa@gmail.com

929-633-2900

জোটে যাওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল-বিভক্তিতে দিশেহারা গণঅধিকার

জোটে যাওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল-বিভক্তিতে দিশেহারা গণঅধিকার

আইবিটিভি ডিজিটাল      প্রকাশিত: দুপুর ০১:৩৯, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার      আপডেট: বিকাল ০৩:৫৯, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা ইস্যুতে চাপে পড়েছে গণঅধিকার পরিষদ। বিএনপির সঙ্গে একটি আসনে সমঝোতা হলেও তা মেনে নিতে পারছে না দলের বড় অংশই। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে দলটির ভেতরে দেখা দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ। পাল্টাপাল্টি বিবৃতি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবং বহিষ্কারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এ অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর এক সভায় ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরদিনই দলের সভাপতি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানের উদ্যোগে বিএনপির সঙ্গে দুই আসনে সমঝোতায় যায় দলটি। এতে দলের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২৭ ডিসেম্বর, যখন দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দেন। এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নেওয়া সমঝোতা ও শীর্ষ নেতার দলত্যাগ—দুটি মিলিয়ে নির্বাচনের মুখে দলটির ভেতরে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ গতকাল ঘটে আরও বড় ঘটনা। দলের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গণঅধিকার পরিষদ কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা বা জোট করেনি। তারা এককভাবে নির্বাচন করছে, কারও ব্যক্তিগত সমঝোতা থাকলে সেটা দলের সমঝোতা নয়। এরপরই পাল্টা আরেক বিবৃতিতে এটি নাকচ করে দেন দলের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘জনমনে বিভ্রান্তি, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত’ থাকার অভিযোগে দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুসারে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে কোনোভাবেই আমাকে অব্যাহতি দিতে পারেন না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের নামে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোসহ সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, দলগতভাবে দুই সিটের বিনিময়ে সমঝোতা কেউই চাননি। কৌশলে এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।