ইরানের নজিরবিহীন বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তেহরানের প্রতি চরম মারমুখী অবস্থানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হঠাৎ করেই তার কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তার সুর পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার কাছে তথ্য রয়েছে যে ইরানে বর্তমানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং বড় আকারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা ইরান সরকারের নেই।
কিন্তু হোয়াইট হাউসের এ মৌখিক ‘নমনীয়তা’ বা সুর বদল আসলে কতটা কৌশলগত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একই সময়ে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। একদিকে ‘ভালো খবর’ বলে টুইট করা, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে রণতরী মোতায়েন—ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে এক নতুন রহস্য ও উত্তেজনার আবর্তে ঠেলে দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘সুর বদল’ আদতে ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়া, নাকি বড় কোনো সামরিক অভিযানের আগের নিস্তব্ধতা—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত সূত্র’ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। বিশেষ করে এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ার খবরকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এটি একটি ভালো খবর। আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে।’
ট্রাম্পের কণ্ঠে শান্তির সুর শোনা গেলেও মার্কিন সামরিক তৎপরতা ভিন্ন কথা বলছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সঙ্গে থাকা ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’কে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে তেহরানকে চাপে রাখতে জলপথে শক্তি বৃদ্ধি করছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছাবেন, নাকি ২০২৫ সালের জুনের মতো আরও একটি সংঘাতের সূচনা হবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েকদিনের পরিস্থিতির ওপর।