বিশ শতকের শুরুর দিকে উটই ছিল ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজিদের কাফেলাগুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উটের পিঠেই সৌদিতে পৌঁছতেন।
এবার এই উটের জন্যই সৌদি আরব নিয়েছে এক অভিনব সিদ্ধান্ত। তারা লাখ লাখ উটের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মূল্যবান প্রাণীগুলোর আরও ভালো ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ উট পালন খাতকে আরো কার্যকর করে তুলবে এবং উটগুলোর পরিচয় ও মালিকানা সংক্রান্ত একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি করবে। সৌদি সরকারের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে এই নথির ছবিও দেখিয়েছে। সেখানে সবুজ রঙের একটি পাসপোর্ট দেখা যায়, যার ওপর রয়েছে দেশের প্রতীক এবং সোনালি রঙের একটি উটের ছবি।
২০২৪ সালে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২২ লাখ উট রয়েছে, যা প্রতি বছর দেশটির অর্থনীতিতে দুই বিলিয়ন রিয়ালের বেশি অবদান রাখছে।
উট সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। দেশটিতে উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়, যেখানে সেরা উটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। জাতীয় দিবস, বিশেষ ও ঐতিহাসিক উপলক্ষে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী উটের উপস্থিতি ছাড়া যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
সৌদি আরব এবং সামগ্রিকভাবে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে উটের ভূমিকার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক যুগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সৌদি আরব এখন যে বিপুল বিনিয়োগ করছে, সেই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই দেশটি উটের ঐতিহাসিক মূল্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় উট শিল্প দেশটির তেলবহির্ভূত প্রধান আয়ের উৎসগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।