ibtvusa@gmail.com

917-517-9777

এবার পেজেশকিয়ানকে বীর বানালো ইরানিরা

এবার পেজেশকিয়ানকে বীর বানালো ইরানিরা

আইবিটিভি নিউজ ডেস্ক     

মাসুদ পেজেশকিয়ান একজন স্বল্পপরিচিত মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ। ছিলেন ইরানের সংস্কারবাদী আইনপ্রণেতা। হৃদ্রোগবিষয়ক শল্যবিদ থেকে এখন তিনি দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তাঁর এ জয় সামাজিক স্বাধীনতা ও আরও বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতি–প্রত্যাশী ইরানের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। ১৯৮০ এর দশকে ইরান–ইরাক যুদ্ধে পেজেশকিয়ান অংশ নেন ও চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসাকর্মীদের মোতায়েন করার দায়িত্ব ছিল তাঁর।

প্রেসিডেন্ট খাতামির শাসনামলে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন পেজেশকিয়ান। ১৯৯৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও এক সন্তান হারান তিনি। পরে আর বিয়ে করেননি। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়েই এখন বেঁচে থাকা তাঁর। পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে কট্টরপন্থী প্রার্থী সাইদ জালিলিকে হারিয়েছেন। জয়ী হওয়ায় তেহরানের দ্রুত বিকাশমান পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েনে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারেন তিনি। এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের।

পেজেশকিয়ান এমন লোকদের সমর্থন পেয়েছেন, যাঁরা মূলত শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলামি ভাবধারার বিপরীত কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানে ব্যাপকভাবে আশাহত হয়েছেন এ শ্রেণির ভোটাররা। ৬৯ বছর বয়সী হৃদ্রোগবিষয়ক এ সার্জন ইরানকে বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। অঙ্গীকার করেছেন, ২০১৫ সালে সই করা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে চলা আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় সৃষ্ট উত্তেজনা হ্রাস এবং সামাজিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার।

ইরানের ধর্মতাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল পেজেশকিয়ান। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতাধর কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় শাসকদের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। ইতিমধ্যে, বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্ক ও সাক্ষাৎকারে খামেনির নীতিকে চ্যালেঞ্জ না জানানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। ইরানে ধর্মীয় নেতা ও প্রজাতান্ত্রিক শাসন—এ দ্বৈত ব্যবস্থায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরান–সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করা বিষয়ে বড় নীতিগত বদল আনার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। কেননা, এগুলো শীর্ষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বিষয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সে যা–ই হোক, নবনির্বাচিত এ প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় নীতির সুরে প্রভাব রাখতে ও আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি মনোনয়নে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারেন। আয়াতুল্লাহ খামেনির বর্তমান বয়স ৮৫ বছর। পেজেশকিয়ান তাঁর দেশের ধর্মতাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতাধর কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় শাসকদের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। ইতিমধ্যে, বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্ক ও সাক্ষাৎকারে খামেনির নীতিকে চ্যালেঞ্জ না জানানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে এক ভিডিও বার্তায় পেজেশকিয়ান ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, চেষ্টা করেও যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হন, তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিদায় জানাবেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি–সমর্থিত সাবেক প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক রয়েছে। তবে পেজেশকিয়ান স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতি চাঙা করা, অব্যবস্থাপনার অবসান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।