ibtvusa@gmail.com

917-517-9777

ব্রিটেনে ঋষি সুনাকদের ভরাডুবি, লেবার পার্টির বিশাল জয়

ব্রিটেনে ঋষি সুনাকদের ভরাডুবি, লেবার পার্টির বিশাল জয়

আইবিটিভি নিউজ ডেস্ক     

জয়ের পূর্বাভাসের মধ্যে ব্রিটেনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। দেশটিতে চৌদ্দ বছরের টোরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে লেবার পার্টির বিপুল বিজয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশ করেছে বিবিসি, স্কাই এবং আইটিভি। এক্সিট পোলে দেখা যায়, ৪১০ আসন পেয়ে বিশাল জয় পেয়ে রেকর্ড গড়েছে কিয়ার স্টার্মারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। অন্যদিকে, ১৩১ আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। ৬১ আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি।

গত পাঁচটি পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিবিসি, স্কাই এবং আইটিভির করা এক্সিট পোলের পর পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে সিটের ব্যবধান হয়েছে মাত্র সাতটি। এ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টিকে সরিয়ে কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনবে বলে ভোটের আগেই সবগুলো জনমত জরিপেই আভাস পাওয়া যায়। এক্সিট পোলের পর এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে, কনজারভেটিভদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, অর্থনীতিতে উদ্বেগ আর আট বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে টালমাটাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্যকে যেতে হয়েছে, অনেক ভোটার স্রেফ সেখান থেকে উত্তরণের আশাতেই ক্ষমতায় পরিবর্তনের জন্য লেবার পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।

এক্সিট পোলে দেখা যায়, ৬১ বছর বয়সী লেবার নেতা স্টারমারই এবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অর্থনীতি মেরামত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসনসহ বিপুল সমস্যার বোঝা তার কাঁধে চাপবে, যদিও সমাধান করার জন্য যথেষ্ট অর্থের যোগান পাওয়া তার জন্য কঠিন হবে। এক্সিট পোল প্রকাশের পর বিবৃতিতে ভোটার এবং নির্বাচনী প্রচার টিমের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান স্টারমার। বলেন, ব্রিটেন একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের চার রাজ্য ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারল্যান্ড মিলে ৬৫০টি সংসদীয় আসনের ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যা একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। ৯৫টি দল ও স্বতন্ত্র মিলে রেকর্ড ৪ হাজার ৫১৫ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩৪ জন, যাদের প্রচার ঘিরে এক মিলিয়নের বেশি ব্রিটিশ-বাংলাদেশির মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।

প্রচারপর্বে সব প্রার্থীই প্রতিশ্রুতির ডালি মেলে ধরেন ভোটারদের সামনে। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে তারা জানান, কারা হলেন পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধি। তাতেই নির্ধারিত হয় – লেবারের হতে যাচ্ছে ব্রিটিশ শাসনভার। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভোটে জিতে সরকার গঠনের জন্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের ৬৫০টি আসনের মধ্যে যে কোনো দল বা জোটের প্রয়োজন ৩২৬টিতে জয়। প্রয়োজনের চেয়ে শত আসনে এগিয়ে লেবার পার্টি। ২০১৯ সালে ৩৬৫ আসনে জিতে সরকার গড়ে টোরি পার্টি, যেখানে লেবার পায় ২০২টি।

গত ২২ মে হঠাৎ করে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে চমক সৃষ্টি করেন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং সেদেশের হিসাবে শতাব্দীর ‘সর্বকনিষ্ঠ’ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। অনেকের ধারণা ছিল, ঋষি সুনাক হয়ত নির্বাচনের সময় কিছুটা এগিয়ে অক্টোবরে দিতে পারেন। তবে সবার ধারণা উল্টে দিয়ে দলীয় জনপ্রিয়তার তলানিতে থাকার মধ্যেই ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি। সেই আশঙ্কায় সত্যি হলো। চরম ভরাডুবি হলো জাতীয় নির্বাচনে।